ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কন্টেন্ট যা আপনি কোথাও পাবেন না

আসসালামু ওয়ালাইকুম আজকে জন্মদিন উপলক্ষে ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে একটা কন্টেন্ট দিচ্ছি 🎯🎂
🚀 কোনদিন কাউকে শেয়ার দিতে বলিনি আমার পোস্ট,কিন্তু এই প্রথম বলছি যাতে মানুষ জাগ্রত হয় ডিজিটাল মার্কেটিং সমন্ধে, আর কতদিন নিজের টাকা নষ্ট করে কোর্স করবে মানুষ। শেয়ার দিয়ে ছড়িয়ে দিন😀
ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে একটা সমুদ্রের মত 🌊 বিশাল বড় একটা সেক্টর যেইখানে অনেক গুলা সহ সেক্টর রয়েছে।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে কয়েকটা স্কিলস রয়েছে যেইখান থেকে যেকোনো একটা যদি আপনি এক্সপার্ট হতে পারেন আপনার ফিউচার এ অন্য কোন প্লাটফর্ম চুজ করতে হবেনা :-
১. SEO ( SEARCH ENGINE OPTIMIZATION ) 🔍 :-
জী এই স্কিল সম্পর্কে সবাই জানেন। এই স্কিলের মাধ্যমে আপনি একটা ওয়েবসাইটকে Rank করতে পারবেন ফার্স্ট পেইজ এ, যাতে আপনার সেলস বাড়ে/ব্লগ সবাই পড়তে পারেন।
Opportunity :- এস ই ও স্কিল এক্সপার্ট দের জন্যে একজন বিজনেসম্যান লক্ষ লক্ষ টাকা দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না কেননা তার ই কমার্স ওয়েবসাইট যদি একবার ranking এ আসে তাহলে তার কোটি টাকার সেলস জেনারেট হবে। এই স্কিল এ প্রচুর অপরচুনিটি রয়েছে যদি আপনি এই সেক্টর এ এক্সপার্ট হয়ে থাকেন অন্যথায় দাম নেই।
২. PAID ADVERTISEMENT (PPC) 💴 :-
জী এইটা হচ্ছে পেইড মার্কেটিং। কোন ওয়েবসাইটের উপর এড চালিয়ে পেইড ভাবে চাইলে আপনি সেই ওয়েবসাইট কে Rank করতে পারেন গুগলে। আবার ইউটিউব এও কোন কিছু সার্চ দিলে দেখবেন একটা এড রান হচ্ছে, জী হ্যা এইটা পিপিসি এর কামাল।
Opportunity :- অনেক বিজনেসম্যান আছে যাদের অপটিমাইজেশন এর ধৈর্য নাই তারা চান টাকার বদলে টাকা কামাতে তাই তারা পেইড মার্কেটিং এর মাধ্যমে খুব দ্রুত ranking এ আসেন। আপনি শুধু এই সুযোগ এর ই ফয়দা লুটে নিবেন 🎯। এই একটা স্কিল এ যদি নিজেকে এক্সপার্ট করতে পারেন তাহলে অন্য কোন স্কিল এর দিকে নজর ও রাখতে হবেনা কেননা প্রচুর কাজ আছে এই সেক্টর এ কিন্তু কাজ পারে এমন লোক খুব কম। যাদের ওয়েবসাইট/সাইট/পেজ rank করছে না তাদের গিয়ে রিচ করে বলুন যে আপনি পেইড এর মাধ্যমে খুব দ্রুত তার ওয়েবসাইট কে rank করতে পারবেন।
৩. Social Media Optimizations ⚒️ :-
কোন ইনস্টাগ্রাম বিজনেস পেইজ বা ফেসবুক পেইজ কেও Ranking করা যায় শুধু মাত্র অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে + একটা বিজনেস পেইজ অপটিমাইজ হলে সেইটার একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ে।
Opportunity :- অনেক সুযোগ রয়েছে এই প্লাটফর্ম এ, এখনো সোশ্যাল মিডিয়া পেইজ গুলো তেমন জনপ্রিয় হয়নি, যত জনপ্রিয় হবে ফিউচারে। তাই এই সুযোগ টা কাজে লাগিয়ে ফেলুন অনেক গুলা unorganized পেইজ দেখবেন তাদের রিচ করুন বলুন তাদের পেইজ অপটিমাইজড হলে তাদের কি কি বেনিফিট হবে এতে 😉 এটাও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ে পরে কিন্তু এইটা বর্তমানে অন্য লেভেল এর চুজ করা একটা স্কিল, যা কিনা ভবিষ্যতে ডিভাইড হয়ে যাবে বলে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তাড়াতাড়ি এক্সপার্ট করে ফেলুন নিজেকে।
৪. Social Media Marketing 👥 :-
এইটা হচ্ছে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ওভার গ্রোইং সেক্টর। ক্লায়েন্ট এর সোসিয়াল মিডিয়া পেইজ সম্পূর্ন আপনার নিয়ন্ত্রনে থাকবে, পেইজ এর সেলস বাড়ানোর দায়িত্ত্ব ও আপনার উপর থাকবে + সোসিয়াল মিডিয়া ম্যানেজার ও এই সেক্টর এর একটা সব সেক্টর।
ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম এর এড রান করে সেইগুলা থেকে সেলস বের করে আনতে হবে।
Opportunity :- লক্ষ লক্ষ ফেসবুক/ইনস্টাগ্রাম পেইজ আছে যারা কিনা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর উপর কাজ ও দিয়ে থাকে + অনেক এজেন্সি আছে এই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর উপর!
এই সেক্টর এর ৫বছর পর অনেক গুলো ভাগ হবে তাই মনে করি আগে এইটা কে ফোকাস করুন।
৫. Email Marketing 📬 :-
ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের অন্যতম জনপ্রিয় একটা সেক্টর যা কিনা ডিজিটাল মার্কেটিং এ একদম প্রথম থেকে প্রচলন চলে আসছিলো। আগে প্রত্যেকটা ব্যবসায়ীরা ইমেইল মার্কেটিংয়ের উপর প্রচুর নির্ভর ছিলো যার ডিমান্ড এখনো কমেনি, ইমেইল কে এখনো প্রফেসনাল প্লাটফরম হিসেবেই ধরা হয়। শিখতে হবে কিভাবে মেইল করলে স্প্যাম এ যাবেনা, কিভাবে একটা প্রফেসনাল মেইল বানাতে পারবেন, কিভাবে মেইল কেম্পেইন এর সাহায্য প্রতিদিন মানুষদের আউটরীচ করতে পারবেন।
Opportunity :- সঠিক ভাবে রিসার্চ করে যদি ইমেইল কেম্পেইন চালাতে পারেন তাহলে অবশ্যই কাজের কোন অভাব হবেনা। দেখবেন বিদেশী অনেক গুলো কোম্পানি মেইল মার্কেটিংয়ের উপর অনেক টা নির্ভরশীল, এদের টার্গেট করুন তাদের অফার করুন যে আপনি তাদের প্রতিদিন এর মেইল হ্যান্ডলিং করবেন।
৬. Affiliate Marketing 📞 :-
এফিলিয়েট মার্কেটিং ও খুব চমৎকার একটা স্কিল যার মাধ্যমে আপনি কারো প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিবেন এবং তার বদলে সেই প্রোডাক্ট হতে একটা নির্দিষ্ট কমিশন রাখবেন। এই মার্কেটিং প্রত্যেক বছর শুধু বেড়েই চলছে, বলতে পারেন কয়েক বছরের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ এফিলিয়েট করা শুরু করবেন।
এইখানে আপনার একটা অডিয়েন্স থাকবে যাদের কে একটা প্রোডাক্ট সাজেস্ট করবেন এবং তারা সেইটা কিনলে সেই প্রোডাক্ট এর কিছু পার্সেন্টেজ পাবেন। আর এইটা বলতে পারেন প্যাসিভ ইনকাম
Opportunity :- এই প্লাটফর্মে প্রচুর টাকা রয়েছে এক কথায় বলতে পারেন। ধরেন আপনার অডিয়েন্স ২০০০০ জন। আপনি একটা প্রোডাক্ট এর এফিলিয়েট করলেন ১২০টাকা করে লাভ পেলেন। ৫
২০০০০ জনের মধ্যে ২০০০জন সেই প্রোডাক্ট কিনলেন কেননা আপনি একজন বড় হস্তি। মানুষ আপনার থেকে ইনফ্লুয়েন্স হয়ে সেইটা অবশ্যই কিনবেন যদি 😉 আর এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ও অনেক সাব সেক্টর রয়েছে এবং এর সাব সেক্টর সামনে আরো আসবে।
যেমন :- Amazon affiliate,blogging affiliate etc etc
৭. Copyrighting ✍️ :-
এটা যদিও রাইটিং স্কিল এর মধ্যে পরে, কিন্তু ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্যে কিন্তু রাইটিং এর কোন বিকল্প নেই।
এইটা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি Underrated স্কিল! আপনি যেকোনো ব্লগ এর জন্যে লিখতে পারেন,কোন পোস্ট এর জন্যে লিখবেন, কোন কন্টেন্ট লিখবেন,এস ই ও এর জন্যে লিখবেন। শুধু আর কি প্রচুর রিসার্চ + টাইপিং এর কাজ এইখানে। একটা ভালো কন্টেন্ট রাইট করতে পারলে এই স্কিল এ আপনাকে কেউ পিছে ফেলার মতো নেই বললেই চলে।
Opportunity :- জী হ্যা এই স্কিল সম্পর্কে হয়তো অনেকের ধারনা কম কিন্তু কপি রাইটিং যারা করতে পারে/ কনটেন্ট রাইটিং যারা পারেন তাদের আসলেই অনেক অপরচুনিটি ভাই যা কিনা ধারণার বাহিরে। মানুষ হারিকেন দিয়ে একটা ভালো রাইটার খুজে 🥲
৮. Influencer Marketing 🗣️ :-
জী হ্যা এইটাকে আমার অনেকে মাউথ মার্কেটিং ও বলে। এই মার্কেটিং এ আপনাকে ইনফ্লুয়েন্স করতে হবে আপনার অডিয়েন্স দের। এইখানে কমিশন বেজড থেকে বেশি এডভ্যান্স পেইমেন্ট করা হয়। বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট আপনি নিজে ইউজ করে আপনার অডিয়েন্স দের দেখাবেন এতে আপনার ভালো একটা ইনকাম।জেনারেট হবে 💵। যদি নিশ সিলেক্টেড অডিয়েন্স একটিভ থাকে আপনার প্রতি তাহলে তো আরো ইনকাম।
Opportunity :- প্রত্যেকটা কোম্পানি চায় তাদের প্রোডাক্ট টা যেন ভালোমাত্রায় সেল হয়, এইজন্যে তারা পেইড মার্কেটিং,ওয়েবপেজ,পোস্টার মার্কেটিং, টিভি এড কত কিছু করে? বলতে পারেন ইনফ্লুয়েন্স মার্কেটিং এর জন্যে যদি অডিয়েন্স বানাতে পারেন তাহলে আলহামদুলিল্লাহ।
৯. Content Marketing 🦸 :-
এইটা সর্বশেষে রেখেছি কারণ পুরা মার্কেটিং এর মধ্যে এইটা হচ্ছে সবচেয়ে মেইন সাবজেক্ট।
আবার বলি শুধু ডিজিটাল মার্কেটিং না, পুরা মার্কেটিং সেক্টর এর জন্যে কন্টেন্ট মার্কেটিং এর বিন্দু মাত্র বিকল্প নেই।
আপনি যদি কন্টেন্ট মার্কেটিং এর গুরুত্ব না বুঝেন তাহলে ভাই বলবো আপনি এই গেম এই নাই 🥲 আপনি আছেন ঘোরের স্বর্গে যেইখানে আপনাকে ব্রেইন ওয়াশ দিয়ে রাখা হচ্ছে 🙃 ভাই কন্টেন্ট ইজ কিং!
উপরোক্ত যত বিষয় গুলো উল্লেখ্য করেছি সবগুলোতে যদি আপনি কন্টেন্ট ঠিক রাখেন তাহলে আপনার সফল হবার সুবিধা ১০০ তে ১১০ পার্সেন্ট!
কন্টেন্ট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি সব ইনবাইন্ড ক্লায়েন্ট/কাস্টমার/অডিয়েন্স জেনারেট করতে পারবেন। কন্টেন্ট মার্কেটিং টা একবার শিখে ফেলুন অপরচুনিটি আপনার পিছু ছাড়বেনা।
☝️ আশা করি উপরের এই স্কিল গুলো সম্পর্কে কিছুটা হলেও আইডিয়া হয়েছে আপনাদের। আসলে এই কন্টেন্ট টা দেওয়ার কারণ হচ্ছে আপনারা যে ফুল ডিজিটাল মার্কেটিং নামে কোর্স গুলো করে নিজেকে ক্লায়েন্ট দের কাছে রিপ্রেজেন্ট করছেন পরে আপনার প্রোফাইল দেখলেই যে কেউ বুঝে যাবে যে আপনি কোন ডিজিটাল মার্কেটার নন 🙃 তাহলে বলেন আপনাকে দুনিয়ার কে কাজ দিবে? কোন বোকা/হাদারাম ই হবে যে আপনাকে কাজ দিবে ☺️ ডিজিটাল মার্কেটিং এর মত কাজের চাহিদা মনে হয়না অন্যে কোনো সেক্টর এ আছে ।
৩/৪ মাসে কোনদিন ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে পারবেন না সম্পূর্ন। আরে ভাই একটা সব সেক্টর মোটামুটি শিখতে গেলেই আপনার ২/৩মাস লাগবে ভাই। এক্সপার্ট হইতে গেলে তো অবশ্যই সময় নিতে হবে।
✅ ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে লেখা শুরু করলে দিন রাত পার হয়ে যাবে ভাই। যতুটকু সম্ভব হয়েছে আইডিয়া দিয়েছি আশা করি যারা একদম নতুন তারা এই সম্পর্কে বেস্ট আইডিয়া টা পাবেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *